সিনেটর ক্রিস মারফিদের কান্ড-কারখানা

কানেকটিকাট স্টেটের সিনেটর ক্রিস মারফি ছবি-লেখক

শুভ কামাল: আজকে কানেকটিকাট স্টেটের সিনেটর ক্রিস মারফি আমাদের অফিসে এসেছিলেন। উনি ডেমোক্রেটিক দল থেকে নির্বাচিত সিনেটর। সিনেটর আমাদের দেশের এমপির মত আইন প্রণেতা। নাহ এমপির মতোও না, এমপি তো ছোট্ট বাংলাদেশে ৩০০ জন, আমেরিকায় প্রতি স্টেটে দুইজন করে সিনেটর নির্বাচিত হন, তারা ওয়াশিংটনে স্টেটের প্রতিনিধিত্ব করেন, এবং আইন প্রণয়ন করেন। দুইকক্ষ বিশিষ্ট আমেরিকার কংগ্রেসের একটা কক্ষ হচ্ছে ‘সিনেট’, আরেকটা ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ’। সিনেটে থাকেন ১০০ জনের মতো, আর হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভে ৪৫০ জনের মত, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টিভকে বরং বাংলাদেশের এমপির মত বলা যায়।

আইনসভার এই দুই কক্ষই আমেরিকান আইন কানুনের চেক এন্ড ব্যালেন্স করে, যাতে কোন কক্ষ একচেটিয়া অধিকার খাটাতে না পারে। সিনেটররাই একটা বয়সে স্টেটের গভর্ণর বা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ান। বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে সিনেটর ছিলেন, বাণি স্যান্ডার্সও ভারমন্টের সিনেটর।

যাইহোক, এই স্ট্যাটাস লিখছি বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধি আর এই দেশের জনপ্রতিনিধির মাঝে পার্থক্য বুঝানোর জন্য। তার আগে বুঝতে হবে কোম্পানীগুলোকে এই দেশের আইনপ্রণেতারা কিভাবে ট্রিট করে সেটা। আমাদের দেশে যদি কোন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী অপারেশন শুরু করতে চায় তাহলে শুরুতেই সরকারকে ঘুষ দিতে হবে(অসংখ্য ঘটনা আছে)।

এই দেশে হয় উলটা, এই দেশে বিভিন্ন স্টেট এর সরকার কোম্পানীগুলোর পেছন পেছন ঘুরে, সব স্টেট একেক বড় কোম্পানীকে নানা অফার দেয় তাদের স্টেটে আসার জন্য, এক্ষেত্রেও নিলাম হয় কোন স্টেট অন্য কোন স্টেটের চেয়ে বেশী সুবিধা দিতে পারে! সাধারণত এটা হয় ট্যাক্স কাটের ভিত্তিতে- এক স্টেট বলবে যাও দশ বছর আমারে কোন ট্যাক্স দিতে হবেনা, বা অত মিলিয়ন ডলার ট্যাক্স মওকুফ!

এসব কেন করে? কোম্পানী আসলে চাকরি আসবে, স্থানীয় লোকের কর্মসংস্থান হবে, বাইরের স্টেট থেকে লোক আসবে তারা ট্যাক্স দিবে, তারা বাসা ভাড়া করবে, হোটেল ভাড়া করবে, 
স্থানীয় অর্থনীতি সচল হবে। অথচ বাংলাদেশে হয় ঠিক উল্টোটা!!

যাইহোক, এমন কোন বিড করে আমাদের কোম্পানী তাদের হাব খুলেছে কানেকটিকাটে এক বছর আগে। সিনেটর আসছিলেন দেখতে সব ঠিকঠাক চলতেছে কিনা!

তারপর যে একটা অনুষ্ঠানের মত হল, এটাকে বলে “টাউন হল”। সব জনপ্রতিনিধি জায়গায় জায়গায় “টাউন হল” করেন, সেখানে তারা মানুষের প্রশ্নের জবাব দেন, কারো কোন চাহিদা থাকলে শুনেন, এ যেন জনসম্মুখে জবাবদিহিতা। শুধু যে জনপ্রতিনিধিরা টাউনহল করেন তা না, ধরেন কোম্পানীর সিইও আসলেও টাউনহল করেন। সেখানে সবার প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়!

তো সিনেটর প্রথমে বক্তৃতা দিলেন, তার স্টেটে সবাইকে স্বাগত জানাইলেন। তার স্টেটে স্থায়ী হওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন, তার স্টেটে থাকলে কি কি সুবিধা সেটা বললেন, তরুণদের এখানে থাকার জন্য কি কি সুবিধা সেসব বললেন। উনি নতুন একটা বিল তুলবেন সংসদে সেটা জানালেন, দেশের সার্বিক অবস্থা নিয়া আলাপ করলেন। সবার পরে জিজ্ঞেস করলেন আপনাদের কি কি বলার আছে বলুন, জনপ্রতিনিধি হিসাবে আমার কি করলে ভাল হয়, আমার জন্য কোন পরামর্শ থাকলে দিতে পারেন। তো পোলাপান এইটা ওইটা জাতীয় বিষয় নিয়া প্রশ্ন করছে, বা এইটা ওইটা করলে ভাল হয় সেগুলা বলছে। উনি ওয়াশিংটনে কি কি চলতাছে কোন কোন বিল পাশ হওয়ার সম্ভাবনা আছে সেইসব কতক্ষণ বললেন।

আমার সবচেয়ে অবাক লাগলো যে বিষয়টা, এই দেশের রাজনীতিবিদের মূল টার্গেট তার স্টেট কিভাবে আগায়া যাবে সেইটা নিয়ে কাজ করা। প্রতিটা কথায় এর আন্তরিক প্রতিফলন। এবং এই তাড়না থেকেই আজকে আমাদের অফিসে আসা, ভোটের জন্য নয়! এইখানে চাকরি করা বেশিরভাগ লোকই বাইরের স্টেটের, বেশিরভাগই নিউজার্সি না হয় নিউইয়র্ক থেকে চাকরি করতে আসা, আজকের তার আসার সাথে ভোটের কোন সম্পর্কই নাই! এই ব্যাপারটাই সবচেয়ে অদ্ভুত লাগলো! তাছাড়া কোন স্যার স্যার নাই, জ্বী হুজুর জ্বী হুজুর নাই, ঠিক অন্য আরেকটা সাধারণ মানুষের মত। আর এখানকার ট্র‍্যাডিশনাল পলিটিশিয়ান হইতে হইলে বেশ ক্যারিশমাটিক হতে হয়, গণতান্ত্রিক উপায়ে দল থেকে নমিনেশন জিতে আসতে হয়, এই ভদ্রলোকের হাইটও ছয় ফুটের বেশি।

যাইহোক তার সাথে একা একটা ছবিও তুলেছি। কিন্তু আমার ছবি খারাপ এসেছে তাই আপলোড দিলাম না, আপাতত ফেসবুকে অনলি মি করে রেখেছি। এই সিনেটর বয়সে বেশ তরুণ, বলা যায়না কোন এক দিন হয়ত প্রেসিডেন্ট ইলেকশন করবে, যদি কখনো করেন বা প্রেসিডেন্ট হয়েই যান তখন পাবলিক করে আপলোড দিবোনে!!

আমেরিকা প্রবাসি লেখকের ফেইসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.